কুড়ি বড়ির নেপথ্যে || বাপ্পা আজিজুল || মানসলোক
কুড়ি বড়ির নেপথ্যে
বাপ্পা আজিজুল
কুড়িটি বড়ি খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ডাক পেয়ে দেখতে গেলাম। ১৭ বছরের তরুণী। সুশ্রী। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা। আলাপে জানা গেল-
২.৫ বছর আগের কথা। বাবার সংগে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে একজন সুদর্শন যুবকের সাথে পরিচয় হয়। যুবকটি সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত বিসিএস ক্যাডার। পরিচয়ের সপ্তাহের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। বায়োডাটা যাচাই-বাছাই চলে। রেস্টুরেন্টে সাক্ষাত পর্বে ঘন্টাখানেক ধরে আলাপ, বোঝাপড়া হয়। মেয়েটি আনন্দের সাথে বিয়েতে মত দেয়। মাসখানেকের মধ্যে ধুমধাম করে বিয়ে দেয়া হয়। বিসিএস করা পাত্র কোন যৌতুক না চাইলেও গহনা, ফার্নিচার, অনুষ্ঠান মিলিয়ে ২০ লাখ টাকা খর্চা হয়ে যায় বাবার। বাবা সামর্থ্যবান। একমাত্র মেয়ের সুখের জন্য এ আর তেমন কী! বিয়ের ২য় দিন বাবার বাড়ি স্বামীসহ বেড়াতে আসে মেয়ে। ৩য় দিন স্বামী তাকে কোচিং-এ দিয়ে আসে। সামনে এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু কোচিং সেন্টার থেকে আর বাবার ঘরে ফিরেনি সদ্য বিবাহিতা। ব্যাচমেট নাগরের হাত ধরে পালিয়ে যায় সে। নানা তদবির করেও ফেরানো যায় না তাকে। মামলা হয়। আদালতে মেয়ে তার বাবা-মাকে অস্বীকার করে। বিসিএস বর ৬ মাস অপেক্ষা করে। মেনে নিতে চায়। কিন্তু মেয়ে নারাজ। মেয়েটি তার ব্যাচমেট প্রেমিকের সাথে ঘর বাঁধে। লো প্রোফাইল ছেলে, পারিবারিক সমতাও নেই। বছর যায়। মেয়ের মা ও নানী পাগলপ্রায়। অগত্যা বাবা তাদের সামাজিকভাবে মেনে নেয়। বাবার বাড়িতে গতায়াত বাড়ে। গত ৬ মাস ধরে পারিবারিক অশান্তি। ২য় স্বামী মারধর করে। শাশুড়ি কথা শোনায়। অশান্তি লেগে থাকে। মন বিষণ্ণ। পড়াশোনায় মনোযোগ নেই। খাওয়াতে অরুচি। বাঁচতে ইচ্ছে করে না। একদিন রাত ২টায় বাবাকে ফোন দেয়। এখনি নিয়ে যাও নতুবা লাশ নিতে হবে। হন্তদন্ত হয়ে বাবা ছুটেন বিয়াইয়ের বাসায়। বিয়াই-বিয়াইন কিছুটা নির্বিকার। মেয়েকে ঘরে নিয়ে আসেন। পরদিন মেয়ে ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করে। কিন্তু এরপর থেকেই মেয়েটি অস্বাভাবিক কথা ও আচরণ করতে থাকে। রিগ্রেসিভ বিহ্যাভিয়র (শিশু সুলভ আচরণ), ঘুম নেই, অস্থির। ডিভোর্স দেয়া স্বামী কাছে পেতে ব্যাকুল। তাকে না পেলে মারা যাবে। এক পর্যায়ে কুড়িটি বিভিন্ন বড়িও সেবন করে।
মেয়েটি বিষণ্নতায় ভুগছে। আত্মহত্যার প্রবণতা আছে। একিউট ট্রমার কারণে স্ট্রেস ডিজর্ডারের কিছু লক্ষণ প্রকট। আমরা ভর্তি রেখে চিকিৎসা করি। কিছুটা উন্নতি হলে ছুটি দেই। ফলো আপ করতে বলি। এসব ক্ষেত্রে অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে ঔষধ খাওয়াতে হয়। রোগীর নাগালের বাইরে ঔষধ রাখতে হবে। যেন একসাথে অনেক বড়ি খেয়ে আবার আত্মহত্যার চেষ্টা না করে। আত্মহত্যা প্রবণ রোগীর অভিভাবকদের জন্য জরুরি-
• রোগীকে সর্বদা সতর্ক নজরে রাখুন।
• একা থাকতে দেবেন না।
• অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে ঔষধ সেবন করবে।
• আত্মহত্যার উপকরণ নাগালের বাইরে রাখুন।
• নিয়মিত চিকিৎসা/ফলোআপ করুন।
(মনোবন্ধু সিরিজ-৩)
Follow Your Psychiatrist
https://www.facebook.com/Dr. Md. Azizul Hakim Bappa
https://www.youtube.com/@Mind-Boost-with-Dr-Bappa
www.manoslok.com
ডা. মো. আজিজুল হাকিম বাপ্পা
এমবিবিএস (চমেক), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এমডি (সাইকিয়াট্রি)
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল)
মনোরোগ, যৌনরোগ, আসক্তি নিরোধ ও সাইকোথেরাপি বিশেষজ্ঞ
সিভিল সার্জনের কার্যালয়, বগুড়া।
চেম্বার: ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, বগুড়া
কানছগাড়ি, শেরপুর রোড, বগুড়া।
সিরিয়ালের জন্য: ০১৭০১৫৬০০১১, ০১৭০১৫৬০০১২, ০১৮৬৫৪১৩৬৫৪


No comments