রক্ত আমার ভালো লাগে || বাপ্পা আজিজুল || মানসলোক
রক্ত আমার ভালো লাগে
বাপ্পা আজিজুল
সুদূর চট্টগ্রাম থেকে বগুড়ায় এসেছিলেন একজন রোগী। অবশ্য স্বেচ্ছায় নয়। তিনি একটি এনজিও-র তত্ত্বাবধানে আছেন। শুরুতে সহযোগিতা করছিলেন না। ইন্টারভিউয়ের সারাক্ষণ মোবাইলে ডুবে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন ১৬ বছরের এই বালিকা। যদিও নিজেকে বালিকা পরিচয় দিতে নারাজ। শোনা যাক তার জীবনের গল্প...
বায়োলজিকাল বাবা-মায়ের কোন হদিস নেই। লোকমুখে শোনা- মা একজন যৌনকর্মী ছিলেন। যোগাযোগ নেই। একটি এনজিও-র তত্ত্বাবধানে তাদের পল্লীতে বড় হওয়া। সেখানে একজন মা ও ভাই-বোন ছিল তবে এখন চট্টগ্রাম নগরীর একটি ছাত্রী হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালানো হচ্ছে। যদিও পড়ালেখায় মন নেই। জেলা পর্যায়ে অনুর্ধ্ব ১৬ প্রমিলা ক্রিকেট দলে খেলা হয়। নারীদের পোশাক পরতে অনিহা। জিন্স-টিশার্টে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ হয়। নারীবন্ধু নেই। ছেলেদের সাথে সখ্যতা। নিজেকে ছেলে ভাবতেই ভালো লাগে। তবে মেয়েদের প্রতি তার যৌন আকর্ষণ আছে। এমনকি নারীদের সাথে বিভিন্ন যৌনাচরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। শৈশবে কোন যৌন নির্যাতনের ইতিহাস নেই। নিজেকে পুরুষে রুপান্তরিত করার জন্য সে সবকিছু করতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে কিডনি বিক্রি করে চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করবে।
রাতে ঘুম হয় না। ইনফ্যাক্ট রাত টা ৪-৫টা পর্যন্ত মোবাইল দেখা হয়। সারাদিনে মোবাইলের ব্যবহার ১২-১৪ ঘন্টা প্রায়। স্কুলে যাওয়া হয় না। মন খারাপ থাকে। আত্মহত্যার চিন্তা আসে। এই জীবনকে মাঝেমধ্যে অভিশাপ মনে হয়। কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। রাগ ও জেদ প্রচন্ড। রেগে গেলে হাত কাটলে ভালো লাগে। পরে কোন খারাপ লাগা তৈরি হয় না। রক্ত দেখতে ভালো লাগে। নিজের কিংবা অন্যের। রক্ত দেখতে ইচ্ছে করলে সে যেকারও গলায় ছুরি বসাতে পারবে। কোন আফসোস বা পাপবোধ হবে না। তার মতে, সে মানুষ হিসেবে খারাপ না। তবে কেউ তাকে বুঝে না। সে যাকে ভালোবাসে তাকে উজাড় করে দেয়। কলিজা কেটে খাওয়াতে চায়। কিন্তু সবাই তাকে ছেড়ে যায়, যেতে চায়।
ইরিনার (দেয়া নাম) এই গল্পগুলো কী আপনার কাছে পরিচিত লাগে? নিজের কিংবা কাছের কারও সাথে কোনো এক/দুইটা মিলে যায়? তাহলে আপনিও একজন মনোবন্ধুর (মনোচিকিৎসক) শরণাপন্ন হোন। আমরা ইরিনার ডায়াগনোসিস করেছি ব্যক্তিত্বের সমস্যা (Borderline Personality Disorder), লিঙ্গজনিত মনোবৈকল্য (Gender Dysphoria), স্মার্টফোন আসক্তি। এজন্য নিয়মিত চিকিৎসা, ঔষধ সেবন ও সাইকোথেরাপি দরকার। এখানে গুরুতর হল আত্মহত্যা ও অন্যকে হত্যার চিন্তা। যেজন্য হাসপাতালে ভর্তি দরকার। এসব চিন্তাকে খাম-খেয়ালি বলে অবহেলা করবেন না। বাড়তে দেবেন না।
(মনোবন্ধু সিরিজ-২)
Follow Your Psychiatrist
https://www.facebook.com/Dr. Md. Azizul Hakim Bappa
https://www.youtube.com/@Mind-Boost-with-Dr-Bappa
www.manoslok.com
ডা. মো. আজিজুল হাকিম বাপ্পা
এমবিবিএস (চমেক), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এমডি (সাইকিয়াট্রি)
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল)
মনোরোগ, যৌনরোগ, আসক্তি নিরোধ ও সাইকোথেরাপি বিশেষজ্ঞ
সিভিল সার্জনের কার্যালয়, বগুড়া।
চেম্বার: ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, বগুড়া
কানছগাড়ি, শেরপুর রোড, বগুড়া।
সিরিয়ালের জন্য: ০১৭০১৫৬০০১১, ০১৭০১৫৬০০১২

No comments