আষাঢ়স্য কবিতাগুচ্ছ || বাপ্পা আজিজুল || মানসলোক
আষাঢ়স্য কবিতাগুচ্ছ
বাপ্পা আজিজুল
১.
শহরে বর্ষা
একটা সময় বর্ষা এলে গ্রামে ফোন দিতাম-
হ্যাঁ রে বাদল, নদীর পানি কতদূর আসলো? খুলির খেড়ের পালা কী ভিজে গেছে?
পেছনের দেয়ালের কাতিতে পানি উঠেনি? তাইলে আর বন্যা হইল নাকি?
আটানব্বই এর বন্যায় আমি প্রাইমারিতে পড়ি বুঝলি?
ঘরের চৌকিতে বসে মাছ ধরছি!- দশকের ব্যবধান।
এখন বাদল ফোন করে খোঁজ নেয়- হ্যাঁ গো মিঞা ভাই,
টিবিতে দেকাচ্ছে তোমাকেরে শহরত নাকি বানের পানিতে সয়লাব? –
সেই দিন কী আর আছে রে বাদল? গ্রামের বর্ষা পেটের দায়ে হোক
আর চ্যাটের দায়েই হোক গাঁটকি-বোচকা নিয়ে শহরে আসছে।
২.
এই বর্ষার মানত
কর্ণফুলীর কান ঘেঁষে অনেক দূর গিয়েছিলুম, সে এক দ্বীপগ্রাম বিশেষ। ঠিক শৈশবের আঁকা গ্রামের দৃশ্যের মতন। বসত ভিটা, রাস্তা ও নদীর টলমল জল একই সমতলে সেখানে সহাবস্থান করে। দাদার আমলের মাটির ঘরটি যদি কোনভাবে এ বর্ষাটি কাটিয়ে ওঠতে পারে, ঘটা করে মিলাদ দেব। দুবছরে রাঁতাকুঁড়া দিয়ে মোরগপোলাও করে সিন্নি দেব। চার দেয়ালে সবুজ শৈবালের অভয়ারণ্য চুরমার করে উত্তরাধিকারের ষোলআনা কড়ায়-গন্ডায় বুঝিয়ে নেব। এই বর্ষায় বেশি নয় এটুকুই মানত।
৩.
আষাঢ়ে গপ্পো
এ শহরে আর সন্ধ্যে হয় না। সুনসান বিকেলকে খেদিয়ে জেঁকে বসে কারফিউ রাত। ঘরে ঘরে সন্তর্পণে হানা দেয় ড্রাকুলা। শোকের মাতমে সূর্যোদয় হয় এখানে। দৈনিকে বের হয় নপুংসকদের আষাঢ়ে গপ্পো।
৪.
ঈভ-আদম
হয়ত তোমায় হারানোর সংশয়
হয়ত পাওয়ার বাসনায়
ভেবে যাই-
আবার যদি হত নূহের তুফান
আসমান চিরে অবিরাম বর্ষণ
চল্লিশ রাত,
তলিয়ে যেত আন্দিজ, আল্পস-এভারেস্টের চূড়া।
এক টুকরো শোলায় শুধু তুমি-আমি,
সেই ভালো এ যামানার ঈভ-আদম।
৫.
বিষ্টির সকালে
হঠাৎ বিষ্টির সকালে
গাড়ি-ঘোড়ার আকালে
অবশেষে পৌঁছুলাম।
অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে,
মাথায় বিষ্টি গড়িয়ে,
পায়ে কাদা মাড়িয়ে।
কিলোখানিক তো হেঁটে,
বাড়তি ভাড়ায় বাস সেঁটে
পৌঁছুলাম অফিস লেটে।


No comments