রব্বানী জুলাই (সৌরবর্ষ) পঞ্জিকা || মানসলোক ||

 


রব্বানী জুলাই (সৌরবর্ষ) পঞ্জিকা 

শুরু: ৫ আগস্ট ২০২৪ (গ্রেগোরিয়ান)


পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদমের ব্যাপারে সেমেটিক ধর্মগুলো সহমত পোষণ করে। তখন থেকে সময় গণনার হিসাব পাওয়া যায়। 'আদম বৎসর' হিসেবে অভিহিত সেই সম্বৎসরেও ১২ মাস ছিল। এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সাল গণনা। এরপর নূহের মহাপ্লাবন পরবর্তী তাঁর বংশধর ও সঙ্গীদের মধ্যে 'মহাপ্লাবনের বছর' নামে সাল গণনা শুরু হয়। নূহকে বলা হয় ২য় আদম। তাঁর বংশধর ও সঙ্গীরা পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প-বিস্তর যোজন-বিয়োজন বা বিকৃতি সহকারে নূহের প্লাবনের এই মহাআখ্যান বিশ্বের প্রত্যেকটি জাতির উপকথা বা পুরাণে বর্ণিত আছে। প্রাচীন পৃথিবীর ১ম লিখিত মহাকাব্য 'গিলগামেশ' থেকে শুরু করে মায়াসভ্যতা, ইউরো মিথ, হিন্দুদের মনুসংহিতা বা মাৎস্যন্যায়, এমনকি অস্ট্রো-নিউজিল্যান্ডের উপকথাতেও নূহের প্লাবনের বর্ণনা পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, প্লাবনটি সংঘটিত হয়েছিল  প্রায় ৮০০০ হাজার বছর আগে। এরপর মহাপ্লাবনকে কেন্দ্র করে নূহবর্ষ প্রবর্তিত হয়। ইতিহাসের যেকোনো বড় ঘটনাকে উপলক্ষ করে নতুন সাল গণনা একটি পুরনো রীতি। যেমন ছিল আমুল ফিল বা হস্তীবর্ষ কিংবা হিজরতের ঘটনা। ঈসা আ. এর জন্ম উপলক্ষ করে আছেভগ্রেগরিয় পঞ্জিকার চল। যা এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া গৌতম বুদ্ধের জন্ম নিয়েও সাল প্রচলিত আছে। আছে ফসল গণনার জন্য প্রবর্তিত বঙ্গাব্দ। তার পূর্বে ছিল শকাব্দ। ১৫ আগস্ট ৪৭, ১৬ ডিসেম্বর ৭১ কিংবা ৫ আগস্ট ২০২৪; বাংলাদেশীদের জন্য তেমনই একেকটি মহামুক্তির দিন। বিউপনিবেশায়নের অংশ হিসেবে আমাদের প্রয়োজন ছিল এই দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে একটি নতুন পঞ্জিকা তৈরির। রব্বানী বা পালনবাদী আদর্শের অনুসারীদের পক্ষ থেকে আমরা এটি অনুভব করছি যে আমাদের নিজস্ব একটি পঞ্জিকার প্রচলন সময়ের দাবি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহযোগিতায় এরকম একটি পঞ্জিকা গণনার প্রাথমিক আইডিয়া জাতির সামনে তুলে ধরা হল:


| মাস নং | মাসের নাম | গ্রেগোরিয় সময় | দিনসংখ্যা |


| ১ | নবযাত্রা (নূরানী) | ৫ আগস্ট – ৪ সেপ্টেম্বর | ৩১ |

| ২ | নির্দেশিকা (হিদায়া) | ৫ সেপ্টেম্বর – ৪ অক্টোবর | ৩০|

| ৩ | নিরাপত্তা (তাকওয়া) | ৫ অক্টোবর – ৪ নভেম্বর |৩১ |

| ৪ | একাগ্রতা (ইখলাস) | ৫ নভেম্বর – ৪ ডিসেম্বর | ৩০ |

| ৫ | সহিষ্ণুতা (সবর) | ৫ ডিসেম্বর – ৪ জানুয়ারি | ৩১ |

| ৬ | কৃতজ্ঞতা (শোকর | ৫ জানুয়ারি – ৩ ফেব্রুয়ারি | ৩০ |

| ৭ | প্রজ্ঞা | ৪ ফেব্রুয়ারি – ৫ মার্চ | ৩০/৩১*|

| ৮ | সততা | ৬ মার্চ – ৪ এপ্রিল | ৩০ |

| ৯ | আমানত | ৫ এপ্রিল – ৪ মে | ৩০ |

| ১০ | সংগ্রাম | ৫ মে – ৩ জুন | ৩০ |

| ১১ | আত্মত্যাগ | ৪ জুন – ৩ জুলাই | ৩০ |

| ১২ | বিজয় (ফাতহ) | ৪ জুলাই – ৪ আগস্ট | ৩১ |


*লিপ ইয়ারে: মাস “প্রজ্ঞা” একদিন বেড়ে ৩১ দিন হবে।


- ক্যালেন্ডারটি "রব্বানী চিন্তা ও মূল্যবোধ"-কে কেন্দ্র করে নির্মিত।

- প্রতিটি মাস একটি ইসলামী গুণ, আদর্শ বা আত্মিক চেতনাকে প্রতিনিধিত্ব করে।

- বছর শুরু হয় “নূরানী” মাস দিয়ে—আলোকিত, নবচেতনার প্রতীক হিসেবে।


সপ্তাহের দিন

১. জুমুয়া (একতা)

২. নূর (আলো)

৩. যুহদ (প্রচেষ্টা)

৪. সাওম (সংযম)

৫. হামদ (স্তুতি)

৬. ইহসান (পূর্ণতা)

৭. সাকিনা (প্রশান্তি)


বাপ্পা আজিজুল

কবি ও চিন্তক

No comments

Theme images by Barcin. Powered by Blogger.