ইসলামে নারী নেতৃত্ব || বাপ্পা আজিজুল || মানসলোক ||

 


ইসলামে নারী নেতৃত্ব

বাপ্পা আজিজুল


আমার চিন্তা শেয়ারের আগে আইম্মাদের মতামত জেনে নিই- 

১. ইমাম আবু হানিফার মতে, নারী প্রধান বিচারক হতে পারবে তবে রাষ্ট্র/সরকার প্রধান হতে পারবে না। 

২. ইমাম মালিকের একটি মত অনুরূপ।

৩. ইমাম শাফেয়ী, হাম্বল বিচারক করারও পক্ষপাতী না। 

৪. ইমাম ইবনে হাজম মনে করেন, কেবল কুরাইশ মহিলারা শাসক/খলিফা হতে পারবেন। 

৫. ইমাম গাজালি মনে করেন নারীরা খিলাফতের যোগ্য না।

৬. ইবনুল আরাবী টপমোস্ট পজিশন দেয়ার পক্ষে না। 

৭. ইমাম কুরতুবি ইবনুল আরাবীর ছাত্র এবং একই মত জানিয়েছেন।

৮. ইবনে তাবারী, মহিলাদের সর্বোচ্চ শাসক ও বিচারক হওয়ার পক্ষে

৯. ইবনে কাছির বিপক্ষে

১০. শাওকানী শাসক করার বিপক্ষে

১১. আবুল আ'লা মওদূদী নারীদের রাজনীতি ও মিলিটারিতে জয়েনের বিপক্ষে। তিনি শাসক হওয়ার জন্য পুরুষ হওয়া আবশ্যক বলেছেন। কিন্তু তিনি ফাতিমা জিন্নাহ'র পক্ষে লড়েছেন। তার দলে এখন নারী সংগঠন আছে যারা কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হন। নির্বাচন করে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হন। সংসদে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হন।

১২.  রাশিদ রিজা শাসক বাদে অন্যান্য পোস্টে নারীদের পক্ষে

১৩. ইমাম আল-বাকিল্লানি, মুস্তফা আস-সিবাঈ, কারজাভী, আব্দুল করিম জায়দান প্রমুখ নারীর টপমোস্ট পজিশনের বিপক্ষে। 

১৪. আল মাওয়ার্দী, মুহাম্মদ আল গাজালি, হিবা রউফ ইজ্জত, আল খামলিশি প্রমুখ নারীদের সর্বোচ্চ শাসক হওয়ার পক্ষে। 


আমার অপিনিয়ন: কুর'আন নেতৃত্ব নিয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা নারী-পুরুষ সবার জন্য আম। আল মাওয়ার্দী খিলাফতের ৭ টি শর্তের মধ্যে পুরুষ হওয়াকে শর্ত করেননি। ইসলাম জেন্ডার বায়াসড না। কুর'আনে রানী বিলকিসের রাজত্বের প্রশংসা করা হয়েছে। নারী নেতৃত্ব হারাম সরাসরি হাদিসের টেক্সট নাই। হাদিসটি হল, "একটি জাতি কখনওই উন্নতি করতে পারবে না যদি তাদের সর্বোচ্চ শাসক নারী হয়"। হাদিসটি হাসান ও সহিহ। হাদিসের একজন রাবী আবু বাকরা স্পষ্ট করে ব্যাকগ্রাউন্ড বলেছেন, সেটা হল এটা পারস্যের জন্য খাস ছিল। তাদের একটা টারময়েল চলছিল। রাজা মারা যান ছেলের ষড়যন্ত্রতে। আবার ছয়মাসের মাথায় ছেলে মারা যায় বাবার মৃত্যুর আগের প্রিপ্ল্যান্ড ষড়যন্ত্রতে। এরপর রাজন্যবর্গ ঠিক করে রাজপরিবারের কাউকে ছাড়া তারা শাসক মানবে না। কোন পুরুষ অবশিষ্ট না থাকায় উক্ত নারী (মৃতের বোন) সিংহাসনে বসে যার অভিজ্ঞতা ছিল না  এবং তিনি ছিলেন প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এর শিকার। সেই প্রেক্ষিতে রাসুল সা. উক্ত মন্তব্য করেছিলেন। ইমাম আবু হানিফা প্রধান বিচারপতি পর্যন্ত এলাউ করেছেন। ইবনে হাজম, তাবারী, মাওয়ার্দী, মুহাম্মদ আল-গাজালি সর্বোচ্চ শাসক হওয়া বৈধ  বলেছেন। আল্লামা কারজাভীর দুইটি ফিকহের তত্ত্ব আছে। ১. অগ্রাধিকার ফিকহ ২. ভারসাম্যের ফিকহ। এই ফিকহ দুটি পর্যালোচনা করলে এই সিদ্ধান্তে আসা যায়- কোন ইসলামি হুকুমতে যদি যথেষ্ট যোগ্য পুরুষ কাউকে না পাওয়া যায়, কোন নারী যদি জিহাদ ও ইজতিহাদের জ্ঞানে অধিকতর পারদর্শী হয় তবে নারীকে সর্বোচ্চ শাসক করা যাবে। আর নিচের পদগুলো তো ইমাম আবু হানিফাসহ অন্যান্যদের মতে এমনিতেই বৈধ। বুঝার সুবিধার্থে বলি, খিলাফতে রাশিদার যুগে খলিফার পর সেকেন্ড ইন কমান্ড বা ২য় গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট ছিল চিফ জাস্টিস। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক প্রমুখ মহিলাদের জন্য সেটি বৈধ করেছেন, তাই মোটাদাগে নারী নেতৃত্বকে এককথায় হারাম বলার সুযোগ নাই। ইমাম তাবারী, ইবনে হাজম, আল মাওয়ার্দীকে খাটো করে দেখার সুযোগ নাই। তাফসির পড়তে গেলেই উনাদের মতামত আমাদের লাগে। 


[পুনশ্চ: জনাব খোমেনি নারীকে সর্বোচ্চ পদে আসীনের কথা বলেননি। তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে নেতৃত্বের কথা বলেছেন যা ইমাম আবু হানিফাসহ অন্যান্যদের মতের সংগে সাযুজ্যপূর্ণ। নারী নেতৃত্বের ব্যাপারে বর্তমানে জামায়াতের অবস্থানও একই। তারা মহিলাদের দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান, এম্পি ইলেকশন করাবে। আর একটা ইসলামি কেবিনেটে নারীদের প্রতিনিধি থাকবেনা। এমন ইউটোপিয়া কেন আপনাদের?]

No comments

Theme images by A330Pilot. Powered by Blogger.